সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু এবং ডাম্পের বাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করুন

  • আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৫ ০৮:২২:০০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৫ ০৮:২২:০০ পূর্বাহ্ন
শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু এবং ডাম্পের বাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করুন
তাহিরপুরে শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু ও ডাম্পের বাজার সেতু - এই দুটি সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। নির্ধারিত সময় ছিল সর্বোচ্চ ৩০ মাস। অথচ আজ সাত বছর পেরিয়েও সেতু দুটি চালু হয়নি। সরকারি অর্থের ৮০ ভাগের বেশি বিল ঠিকাদার তুলে নেওয়ার পরও কাজ অস¤পূর্ণ রয়ে গেছে - যা উন্নয়নের নামে অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিহীনতার উদাহরণ। দুই সেতুর কাজ করছে একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের আওতায় আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮৬ কোটি টাকা এবং ডা¤েপর বাজার সেতুর জন্য ৪৪ কোটি টাকা। অথচ আজ পর্যন্ত সেতুগুলো যাতায়াতযোগ্য হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, মূল কাঠামোর কাজ আংশিক শেষ হলেও ‘এপ্রোচ’ বা সংযোগ রাস্তা না হওয়ায় সেতুগুলো এখন অকার্যকর। বাস্তবে এটি অর্থ অপচয়ের ভয়াবহ চিত্র। এই বিলম্বের অজুহাত হিসেবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে- বন্যা, করোনা, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাত বছরেও কাজ শেষ না হওয়ার দায় কে নেবে? সময়মতো তদারকি না করার দায় কি কেবল ঠিকাদারের, নাকি সংশ্লিষ্ট এলজিইডিরও কিছু দায় রয়েছে? স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, সম্প্রতি ঠিকাদারকে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তখনই প্রশ্ন ওঠে- এত বছর ধরে গাফিলতি চলল, অথচ প্রকল্প কর্মকর্তারা কী করছিলেন? তাহিরপুর কৃষি, মৎস্য, খনিজ স¤পদ ও পর্যটনে সমৃদ্ধ। এই দুই সেতু নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগই নয়, অর্থনীতি, পর্যটন ও পণ্য পরিবহন - সবক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নয়ন ঘটত। অথচ অসমাপ্ত কাজের কারণে লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি যেন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় বাড়ানো, বিল তোলা, কাজ ফেলে রাখা - এই দুষ্টচক্রের অবসান জরুরি। উন্নয়ন মানে শুধু টাকা খরচ নয়, নাগরিকের জীবনমানের উন্নয়ন; আর সেই উন্নয়ন বিলম্বিত হলে সেটিই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে। এখন প্রয়োজন দৃঢ় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। প্রথমত, এই দুই সেতুর প্রকল্পে ব্যয়ের বিপরীতে কাজের অগ্রগতি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ অডিট তদন্ত হওয়া জরুরি। দ্বিতীয়ত, গাফিলতিতে জড়িত ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ ও সময়সীমা নির্ধারণে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। অর্থ অপচয় রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কাগজে নয়, বাস্তবে প্রমাণ করার এখনই সময়। তাহিরপুরের মানুষ সাত বছর ধরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় আছে - তাদের সেই প্রতীক্ষা যেন আর দীর্ঘ না হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স